চরিত্র :
মামা – ৪৫-৫০ বছর
ভাগ্নে – ১৫-১৭ বছর
[ভাগ্নে একটা মোটা বইয়ের ওপর হুমড়ি খেয়ে পড়ছিল, পাশে আরো দু’একটা বই রাখা ।
মামা প্রকান্ড একটা ভাঁড় হাতে ঘরে ঢুকলেন । ভাঁড়টা টেবিলের ওপর রেখে তাকালেন
ভাগ্নের দিকে ।]
মামা । এই, এদিকে যেন নজর দিসনি । বুঝেছিস?
[ভাগ্নের নজর বইয়ের দিকেই]
মামা । এই মন্টে, সাড়া দিচ্ছিস না যে বড়ো? এই বড় ভাঁড়টায় বাগবাজারের রসগোল্লা
রইল – দেখেছিস ভাঁড়টা?
ভাগ্নে । (এক পলক তাকিয়ে) তোমার ভাঁড়ে মা ভবানীই থাকুন, আর বাবা বাগবাজারই
থাক, তাতে আমার কি?
মামা । তাই বলছি যে ভুল করে যেন পেটে পুরিসনি । আমার বিকেলের জলখাবার । বুঝলি?
অবিশ্যি, আমার খাবার পরে তুইও পাবি । তোকেও একটুখানি পেসাদ দেবো ।
ভাগ্নে । তোমার পেসাদ আমার মাথায় থাক ।
মামা । (খুশী হয়ে) তা বটে, তা বটে! পেসাদ তো মাথায় করেই রাখার জিনিস । তা না
হয় রাখলি, কিন্তু সেই সঙ্গে একটু চাখলিও না হয় ।
ভাগ্নে । (মুখ তুলে) বয়ে গেছে আমার ।
মামা । বয়ে যে গেছিস তা তো দেখতেই পাচ্ছি । বাজে বয়েই গেছিস, চোখের সামনেই
দেখছি । (একটু থেমে) বইটা কি শুনি?
ভাগ্নে । অভিধান ।
মামা । অভিধান! অভিধান কি কেউ পড়ে নাকি আবার?
ভাগ্নে । অভিধান পড়লে কতো শিক্ষা হয় তা জান তো । (সোজা হয়ে বসে) কতো কথা শেখা
যায় । আবার, একটা কথার কত রকম মানে, কত কথার একরকমের মানে – এ সবও জানা যায় ।
লেখাপড়া শিখতে গেলে অভিধান চাইই চাই ।
মাম । (একটু রাগতস্বরে) হুঁ, তোকে বলেছে । তবে হ্যাঁ, শুনেছি বটে, সেকালে লোকে
ধান দিয়ে লেখাপড়া শিখতো –
ভাগ্নে । এখন শেখে অভিধান দিয়ে ।
[মামা নীচু হয়ে ভাগ্নের পাশে
রাখা একটি বই তুলে নিয়ে বলেন]
মামা । নেসফীল্ডের গ্রামার! বীন্, B-E-A-N, মানে বরবটি যা আমরা খাই । বীন্ দিয়ে একটা সেন্টেন্স বানা তো দিখি ।
ভাগ্নে । (তৎক্ষণাৎ) আই হ্যাড বীন দেয়ার ।
মামা । য়্যাঁ !
ভাগ্নে । বুঝলে না । এর মানে হচ্ছে – সেখানে আমার বরবটি ছিল । আই হ্যাড বীন
দেয়ার – আমার ছিল বরবটি সেখানে – সেইটাই ঘুরিয়ে ভালো বাংলায় হবে – ‘সেখানে আমার –
‘
মামা । থাক্, থাক্, তোকে আর বিশদ ব্যাখা করে বোঝাতে হবে না । তোর অভিধান
নিয়েই থাক্ তুই । কথার মানে নিয়ে ধুয়ে ধুয়ে খা । যত ইচ্ছে গেল্, কিন্তু কথার
মানে খুঁজতে গিয়ে আমার গোল্লা যেন গিলিস্-নে বাপু ।
[মামা জামা খুলে চেয়ারের গায়ে
ঝুলিয়ে রাখতে রাখতে বলেন ]
হ্যাঁ, ভালো কথা, জামশেদপুর থেকে আমার একটা ট্রাঙ্ককল্ আসবে – জানিস? এলেই
আমায় বলবি, বুঝেছিস?
ভাগ্নে । (ইতিমধ্যেই পাঠে মনোনিবেশ করেছে) আচ্ছা, আচ্ছা!
মামা । আমি ততক্ষণ ইজি-চেয়ারটায় একটু গড়িয়ে নি গে । (চেয়ারে বসতে বসতে) যদি
ঘুমিয়ে পড়ি, আর কল্টা তখন আসে তো আমায় জাগিয়ে দিবি । কেমন – বুঝেছিস?
ভাগ্নে । (কিঞ্চিৎ বিরক্ত হয়ে) দেব গো দেব । তুমি ভেব না ।
মামা । ভাবতে হচ্ছে বই কি । সেই কোন্ সক্কালে কানেকশন্ চেয়েছি, কিন্তু এখনও পর্যন্ত ট্রাঙ্ককলের পাত্তা নেই! (চেয়ারে গা গড়িয়ে) এই,
দরজাটা একটু ভেজা তো, যা ঠান্ডা হাওয়া দিচ্ছে । (কুঁকড়ে গিয়ে একটা চাদর টেনে নিতে নিতে)
হাড় কাঁপিয়ে দিল বাপু । দরজাটা ভেজা ।
[ভাগ্নে একটুও নড়ে না, বইয়েই
মশ্গুল ]
মামা । (গলা চড়িয়ে) কানে যাচ্ছে না বুঝি কথাটা? বলছি না দরজাটা ভেজাতে!
[ভাগ্নে বই রেখে উঠে যায় । এক
বালতি জল এনে ছিটিয়ে ছিটিয়ে দরজা ভেজাতে লাগে ।]
মামা । (তড়িঘড়ি করে সোজা হয়ে বসে) এই মন্টে, ও কি হচ্ছে!
ভাগ্নে । (নির্বিকার মুখে) দরজা ভেজাচ্ছি । তুমি যে ভেজাতে বল্লে ।
মামা । এই দ্যাখো, বল্লুম কি আর বুঝলো কি! আরে মুখ্যু, আমি কি তোকে জল দিয়ে
ভেজাতে বলেছি? তাই বল্লুম নাকি? দরজাটাকে লাগাতেই তো বলেছি ।
ভাগ্নে । তাই বলো । তা বল্লেই হয় ।
[কোণের থেকে একটা লাঠি এনে
দরজায় কষে এক ঘা লাগায়।]
মামা । (চেয়ার থেকে ঊঠে দরজার দিকে এগোন) আরে, আরে, করছিস কি?
ভাগ্নে । লাগাচ্ছি দরজাটাকে । তুমি যে বল্লে লাগাতে ।
মামা । (লাঠিটা ভাগ্নের হাত থেকে নিতে নিতে) ভাঙলি তো আমার সখের সেগুন কাঠের
লাঠিটা! হায় হায় ।
ভাগ্নে । চন্দন কাঠেরটা আছে এখনো । তাই দিয়ে লাগাবো নাকি?
মামা । কি সব্বোনাশ! কি ডাকাত ছেলের হাতে পড়লুম । ওসব লাঠি কি পাওয়া যায়
আজকাল? ও সেই ব্যাঙ্গালোর থেকে আনানো । (লাঠিটা কোণের দিকে রাখতে রাখতে) রক্ষে কর্
বাবা । তোর আর দরজা লাগিয়ে কাজ নেই ।
ভাগ্নে । (কোমরে হাত দিয়ে) তুমিই বলছো লাগাতে আবার তুমিই বলছো –
মামা । (ভাগ্নেকে থামিয়ে) আমি কি এম্নি লাগান্ লাগাতে বলেছি? আমি তো
বলেছিলাম –
ভাগ্নে । কি বলছো, খোলসা করেই বলো না । লাগাতে বলছো, না ভেজাতে বলছো? একসঙ্গে
দুটো কাজ তো হয় না! কোন্টা করতে বলছো শুনি?
মামা । কিচ্ছু বলছিনে । (চেয়ারে বসতে
বসতে খবরের কাগজ হাতে তুলে নেন) বললেও তুই বুঝতে পারবিনে । ধান দিয়ে লেখাপড়া শিখলে
যদি বা বুঝতিস, অভিধান দিয়ে – অভিধান যখন তোর মাথায় ঢুকেছে, এক কথার পাঁচরকম মানে,
পাঁচ কথার একরকম মানে – এসব কথার প্যাঁচে গিয়ে পড়েছিস, তখ্ন তোর মাথার ঘিলু বিলকুল
ঘুলিয়ে গেছে । কথার মান- মর্যাদা কিছুই আর তোর কাছে নেই ।
ভাগ্নে । বল্লেই হলো! নিজেই সোজা
করে বোঝাতে পারো না – কথা পাড়লেই হয় না ।
মামা । আর পেড়ে কাজ নেই । কথার ডিম
খালি অভিধানই পাড়ে । ও আমার কম্মো নয় ।
ভাগ্নে । এই দ্যাখো! (মামার কাছাকাছি
হয়ে) তোমার ঘাড়েও অভিধানের ভুত চেপেছে মামা । সোজা কথার মধ্যে গোঁজামিল দিচ্ছো । কি
পাড়তে কি পাড়ছো ।
মামা । সবই বাপু সঙ্গদোষে । তোর
কুসঙ্গে পড়ে আমিও দেখছি বয়ে গেলাম । এইজন্যেই বলে কারো কোন কথার মধ্যে থাকতে নেই ।
নাঃ, আমি তোর কথায় আর নেই – এই আমি কানে আঙ্গুল দিলাম ।
ভাগ্নে । তাতে আরো বেশি করে শোনা
যায়, বুঝলে মামা । (মামা তাড়াতাড়ি আঙ্গুল বের করে নেন) আমি বলছি কি, তুমি যদি সোজা
করে তোমার বক্তব্যটা বলো – দরজাটাকে তুমি কি করতে বলছিলে?
মামা । কিছু করতে
বলিনি –
ভাগ্নে । তাই বলো!
(টেবিলের পাশে রাখা চেয়ারে বসতে বসতে) আমিও তো সেই কথাই বলছি । দরজা তো কর্তব্যের
মধ্যে নয়, দ্রষ্টব্যের মধ্যে – ঘরের শোভা । গোড়াতেই যদি এই সোজা কথাটা সোজাসুজি
বলতে, তাহলে এত গোল হোত না!
মামা । হোতই গোল ।
আমি যত সোজা করেই বলি না, তুই ঠিক তার উল্টোটাই বুঝতিস । অভিধান গিলে খেতে গিয়ে
অভিধানই তোকে গিলে খেয়েছে । তোর মগজটায় আর কিচ্ছুটি বাকি রাখেনি । এখন আমি যদি
তোকে বলি যে, মন্টু, দরজাটা দে – তাহলে তো তুই দরজাটা খুলে এনে তুলে দিবি আমার
হাতে !
ভাগ্নে । আমার দায়
পড়েছে । আমি কি ছুতোর মিস্তিরি? দরজা দেওয়া কি আমার কম্মো? ইস্ক্রুডাইভার কোথায়
পাবো? ছুতোরের যন্ত্রপাতি কই আমার?
মামা । নেই
ভাগ্যিস্ । থাকলে তো তুই দরজাটা খুলে এনে আমার ঘাড়ে চাপিয়ে দিতিস, এই ছুতোয় ।
ভাগ্নে । (ভাঁড়ের
ঢাকার দিকে হাত বাড়িয়ে আবার সরিয়ে নেয়) অতো সোজা নয় । দাও বল্লেই দেওয়া যায়? গায়ে
আমার অত জোর নেই । গরজ থাকে তো তুমিই নিজে গিয়ে নাও না । দরজা তো ওই দাঁড়িয়েই আছে,
পালিয়ে যাচ্ছে না কোথাও ।
মামা । থাক্, আর
কথা বাড়িয়ে কাজ নেই । ফ্লাস্ক্ থেকে একটু চা ঢাল্ দিখি । কন্কনে হাওয়ায় জমে
কুলপি বরফ হলুম । (গায়ের চাদরটা আরও ভাল করে টেনে নেন) দরজা ভেজিয়ে আর কাজ নেই,
বরং গলাটা ভেজানো যাক । ফ্লাস্ক্ থেকে গরম চা ঢেলে দিতে পারবি এক পেয়েলা? না কি –
ভাগ্নে । কেন পারব
না । (উঠে গিয়ে এক পেয়েলা চা এনে দেয় মামাকে) এই নাও ।
মামা । (চা খেতে
খেতে) আঃ, বাঁচলাম ! এই, আমি একটু ওঘর থেকে আসছি । তুই ততক্ষণ টেলিফোন আপিসে আমার
ট্রাঙ্কের কি হোল, খবরটা নে দেখি ।
[মামার প্রস্থান]
[মামার যাওয়া দেখে
ভাগ্নে তাড়াতাড়ি টেবিলের কাছে চলে আসে ও ভাঁড়ের ঢাকা সরিয়ে ভিতরে একবার দেখে ।
তারপর টেলিফোনের কাছে যায় ।]
ভাগ্নে । হ্যালো,
টেলিফোন অফিস? ট্রাঙ্কের খবর কি? জানতে চাইছেন আমার মামা ।
[একটুক্ষণ ফোন ধরে থাকার পর]
অ্যাঁ, কি? হ্যালো?
কি বল্লেন? সে কি, কোনো ট্রাঙ্কওয়ালার খবর
আপনাদের জানা নেই? অ্যাঁ, কি বলছেন? আপনাদের টেলিফোন গাইডের ক্লাসিফাইড লিস্টে
পাওয়া যাবে? (থেমে) কিম্বা, কোনো বড়ো
স্টোরে ফোন করলেও পেতে পারি । তা স্টোরে, কি কোথাও ট্রাঙ্কওয়ালাদের দয়া করে যদি
আপনারাই একটু জানান – জানাবেন? জানাচ্ছেন? ধন্যবাদ – প্রছুর ধন্যবাদ । আমাদের
নম্বর? সেভেন্ - টু – ফাইভ – ফোর – জীরো – থ্রী –
[টেলিফোনের রিসিভার রাখতেই চায়ের পেয়ালা হাতে মামার প্রবেশ]
মামা । বেশ লাগল
চা-টা । আরেক পেয়ালা দে তো ।
[ভাগ্নে উঠে গিয়ে একটা খালি পেয়ালা এনে দেয়]
মামা । অ্যাঁ, আমি
কি আরেকটা খালি পেয়ালা চেয়েছি? চা চাইলাম না?
ভাগ্নে । চা চাচ্ছো
তো, চেঁচাচ্ছো কেন? পেয়ালা চেয়েছো – দিলাম । চা চাও তো সোজাসুজি বল্লেই হয় । বলতে
হয় – আমায় চা-ভর্তি পেয়ালা দাও, কি পেয়ালা-ভর্তি চা দাও । তা না, আধখানা কথা পেটে,
আধখানা মুখে –
মামা । (চটে উঠে)
ইচ্ছে করছে এই পেয়ালা ছুঁড়ে মারি একঘা তোর মাথায় । মাথাটা দু’ ফাঁক করে দেখি,
সেখানে ঘিলু আছে, না ঘুঁটে হয়ে গেছে সব এর মধ্যেই ।
[ভাগ্নে ফ্লাস্ক্ আর পেয়ালার দিকে এগোয়]
গোবর থাকলেও নেহাৎ
ধান চাষ করা যেত । এখন ঘুঁটেতে অভিধান চাষ কর গে –
[ভাগ্নে ফ্লাস্ক্ আর পেয়ালাগুলো এনে মামার সামনে রাখে]
ভাগ্নে । এই নাও,
খাও । ঢালো আর খাও – খাও আর ঢালো । যত তোমার প্রাণ চায় – যেমন খুশি ।
মামা । যা, দূর হয়ে
যা আমার সামনে থেকে ।
[ভাগ্নের প্রস্থান]
[মামা ফ্লাস্ক্ থেকে এক পেয়েলা চা ঢালেন । টেলিফোন বেজে
ওঠে । পেয়ালা টেবিলের ওপর রেখে মামা তাড়াতাড়ি টেলিফোনের দিকে ছুটে যান।]
হ্যালো, কে নিশিকান্তবাবু? আজ্ঞে, আমি হারাধন । অ্যাঁ, আপনি নিশিকান্ত নন!
আজ্ঞে হ্যাঁ, এটাই সেভেন্ - টু – ফাইভ – ফোর – জীরো – থ্রী । কিন্তু, আমি তো
টেলিফোন আপিসকে বলেছিলাম ট্রাঙ্কের জন্য আমায় কল্ দিতে । কি বল্লেন, আপনি
ট্রাঙ্কের জন্যেই বলছেন? [চেয়ারে বসতে বসতে] কি রকমের ট্রাঙ্ক – মানে? (একটু
হতবাক) ট্রাঙ্কের নম্বর, রঙ – না মশাই, রঙ নম্বর আমার পছন্দ নয় । কোথাওই না – না
কলকাতার কল্-এ, না ট্রাঙ্ক কল্-এ । (রিসিভার হাতবদল করে) দেখুন মশাই, আমি
জামশেদপুরের থেকে ট্রাঙ্ক পাব বলে বসে আছি । আজ্ঞে হ্যাঁ, জামশেদপুর – ইস্টিল
সিটি । (গলা চড়িয়ে) না মশাই, ইস্টিল ট্রাঙ্কের কথা বলছিনে । আপনি কে বলছেন বলুন
তো? বেন্টিঙ্ক স্ত্রীটের আঢ্য অ্যান্ড কোম্পানী? আপনাকে মশাই কে ডেকেছে? কি
বল্লেন, টেলিফোন আপিসকে আমি বলেছি ট্রাঙ্কওয়ালাদের কল্ দিতে? (রিসিভার থেকে কান
সরিয়ে) মন্টু – মন্টে (রিসিভারের কাছে মুখ নিয়ে) না মশাই, মাপ করবেন । আপনি ভুল
করছেন ।
[মামা সজোরে রিসিভার নামিয়ে রেখে চেয়ার থেকে উঠতে উঠতে বলেন
]
এই হতভাগা মন্টে –
[ভাগ্নের প্রবেশ]
কি বলেছিস তুই টেলিফোন অফিসে! দূর, দূর হয়ে যা আমার সামনে থেকে ।
ভাগ্নে । সাধ করে ডাকাই বা কেন, আবার দূর দূর করাই বা কেন । দিনে দুপুরে এমন
ডাকাতির মানে?
মামা । ডাকাতি! ডাকাতির মানে? ডাকাত কাঁহাকা – ইস্টুপিট – রাস্কেল – বাঁদর ।
হতভাগা ভাগ হিঁয়াসে (উত্তেজিত হয়ে) নইলে – এক্ষুনি – এক্ষুনি তোকে আমি খুন করবো । গুম্খুন
করে বস্বো । উজবুক – উল্লুক – বেল্লিক – হিপোপটেমাস্! গোল্লায় যা তুই ।
ভাগ্নে । কি, কি বল্লে ? কি বল্লে তুমি? আমায় গোল্লায় যেতে বল্লে? বেশ, তাই
আমি যাচ্ছি । কিন্তু, তারপর আমায় কোন দোষ দিতে পারবে না – বলে রাখছি কিন্তু ।
[ভাগ্নে এক লাফে টেবিলের পাশে গিয়ে ভাঁড়টা হাতে নেয়]
মামা । (ব্যস্ত হয়ে) এই – এই – কি হচ্ছে! ও কি হচ্ছে? করছিস কি?
ভাগ্নে । তুমি যা বল্লে, তাইই করছি । তোমার গোল্লার ভাঁড় – গোল্লার ভাঁড়ার
ফাঁক করছি
[ভাগ্নে টপাটপ্ রসগোল্লা মুখে পুরতে থাকে]
মামা । (হতভম্ব হয়ে) ফাঁক করছিস । আরে, আরে – সত্যিই তো! সাবড়ে দিলি যে সব ।
ভাগ্নে । তুমি গোল্লায় যেতে বল্লে যে । কি করবো? গোল্লার মধ্যে তো যাওয়া যায়
না । তাই – তাই গোল্লাই আমার মধ্যে যাক । আহা, গোল্লায় যাওয়া – মানে গোল্লাকে
যাওয়ানো – কি ভালো ।
[মামা অভিধান তুলে নিয়ে ভাগ্নের দিকে ছুটে যান ]
মামা । এই অভিধান দিয়েই আভি তোকে ধানপাট করছি – হনুমান, জাম্বুবান কোথাকারের –
[ভাঁড় হাতে ভাগ্নের পলায়ন । পিছনে পিছনে মামা ধাবমান ।]
[সমাপ্ত]
শ্যাম্পেন, ইলিনয়
সেপ্টেম্বর, ১৯৮৭
রসসম্রাট শিবরাম চক্রবর্তী
(শিব্রাম চকোরবরতি) দ্বারা বিশেষ ভাবে অনুপ্রাণিত ও তাঁর প্রতি উদ্দেশিত ।

No comments:
Post a Comment